স্টাফ রিপোর্টার : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে বর্তমানে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
সাধারণত শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। তাদের হাত ধরেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে—এমনটাই প্রত্যাশা করেন অভিভাবকরা। কিন্তু সেই শিক্ষকই যখন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অসদাচরণে জড়িয়ে পড়েন, তখন সমাজের সামনে প্রশ্ন ওঠে—এমন ব্যক্তির কাছ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী শিখবে?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুরা উপজেলার শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজিউদ্দীন আহম্মদের প্রত্যক্ষ সমর্থনে নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগের পর থেকেই তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কলেজে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কলেজের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের কথা বলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কেটে নেওয়া বা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হতো।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াতের নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কলেজে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পরে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং প্রায় দেড় বছর ধরে পলাতক ছিলেন বলে জানা গেছে।
এরপর তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা মুখ খুলতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তবে সম্প্রতি তিনি নিজেকে বিএনপির সমর্থক দাবি করে প্রভাব ও অর্থের জোরে পুনরায় চাকরিতে বহালের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির পর কলেজে বহিরাগত কিছু লোকজন নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অধ্যক্ষের কক্ষ তালাবদ্ধ করে দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছেন। এমনকি মাদকাসক্ত নারীদের দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানিরও চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়ার পুনর্বহালের আদেশ বাতিল করে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।