নরসিংদী প্রতিনিধি : যিনি জীবনভর মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন, যাঁর হাত ধরে এলাকায় নির্মিত হয়েছে অসংখ্য রাস্তাঘাট, আজ তাঁরই শেষ বিদায়ে মেলেনি এক চিলতে পথ। প্রতিবেশীর তোলা উঁচু দেয়ালের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রইল পল্লী চিকিৎসক ও তিনবারের নির্বাচিত স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক হোসেনের নিথর দেহ। শেষ পর্যন্ত দেয়াল টপকে খাটিয়া পার করে নিয়ে যাওয়া হলো ঈদগাহে।
রোববার (১১ মে) নরসিংদী সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বথুয়াদী গ্রামের তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ডাক্তার মোবারক হোসেনের দাফনকালে ঘটে যাওয়া এমন অমানবিক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডা. মোবারক হোসেন মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের তিন তিনবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন। জনসেবায় আমৃত্যু নিবেদিত এই মানুষটির বসতবাড়িতে যাতায়াতের প্রধান পথটি সম্প্রতি বন্ধ করে দেয় প্রতিবেশী মৃত কফিল উদ্দিনের পরিবার। পারিবারিক বিরোধের জেরে কফিল উদ্দিনের স্ত্রী ও তাঁর সন্তানেরা চলাচলের রাস্তায় উঁচু প্রাচীর নির্মাণ করে ডা. মোবারকসহ ৫-৭টি পরিবারকে কার্যত গৃহবন্দী করে ফেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষের সন্তানেরা এলাকায় প্রভাবশালী এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হওয়ায় ডাক্তার মোবারক হোসেন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং এই শোকেই ধুঁকে ধুঁকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর পর শোকাতুর পরিবেশ ছাপিয়ে ওঠে লাশের খাটিয়া বের করার দুশ্চিন্তা। কোনো পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই উঁচু দেয়ালের ওপর দিয়ে অতি কষ্টে খাটিয়া পার করতে হয় স্বজন ও এলাকাবাসীকে। এ সময় সেখানে উপস্থিত শত শত মানুষের চোখে জল আর ক্ষোভ দেখা যায়। জনহিতৈষী এক নেতার এমন বিড়ম্বনাপূর্ণ বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।
"একজন মানুষ যিনি সারাজীবন অন্যের চলার পথ সহজ করেছেন, তাঁর নিজের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথটি এভাবে বন্ধ হওয়া সভ্য সমাজের কলঙ্ক।"
তাই যারা একজন জনপ্রতিনিধি ও চিকিৎসকের চলাচলের পথ বন্ধ করে তাঁকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং মৃত্যুর পরেও সম্মানহানি করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ওই 'সন্ত্রাসী' পরিবারকে এলাকা থেকে উচ্ছেদ ও অবরুদ্ধ পথটি খুলে দিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।