• নরসিংদী
  • রবিবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

Advertise your products here

নরসিংদী  রবিবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ;   ২৪ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
website logo

নরসিংদীতে সালিশের রায় মানতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা তরুণীর


জাগো নরসিংদী 24 ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৫৫ পিএম
নরসিংদীতে সালিশের রায় মানতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা তরুণীর

স্টাফ রিপোর্টার : নরসিংদীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক তরুণীকে ভোগ করে গেছে প্রতিবেশী নাইম (২০) নামে এক তরুণ। দিনের পর দিন তরুণীকে ধর্ষণ করে অবশেষে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় ওই তরুণ। এতে ওই তরুণী নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেয়। 

এদিকে তরুণী থানায় অভিযোগের পর গ্রাম্য শালিস দরবারের মাধ্যমে জরিমানার রায় মাধ্যমে বিষযটি রফাদফার চেষ্টা মেনে নিতে পারেনি ওই তরুণী। ফলে বিএনপি নেতা ও পুলিশের উপস্থিতিতে ধষর্ণের ঘটনায় সালিশ চলাকালে ক্ষোভে  গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় ওই তরুণী। পরিবারের লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে গলায় ফাঁসরত অবস্থায় তরুণীকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতাল নিয়ে গেলে সে প্রাণে বেঁচে যায়।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

অভিযুক্ত নাইম একই এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে। সে পেশায় প্রাইভেটকার চালক।

জানা যায়, চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা চকপাড়া এলাকার ওই তরুণীর পাশ্ববর্তী শিবপুর উপজেলায় বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ওই তরুণীর বাবার বাড়ির প্রতিবেশি প্রাইভেটকার চালক নাইম তাকে একের পর এক প্রেম প্রস্তাব দিলে এক পর্যায় ওই তরুণী তার প্রেমের জালে আবদ্ধ হয়। পরে নাইমের মিষ্টি কথায়৷ ভুলে ওই তরুণী তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বাবার বাড়ীতে চলে আসে।  পরে  বিয়ের প্রলোভনে নাইম তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এ বিষয় জানাজানি হলে ভুক্তভোগী  তরুণী ও তার পরিবার নাইমকে বিয়ের জন‍্য চাপ দিতে থাকে। নাইম বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে তরুণী সদর মডেল থানায় আইনী সহযোগিতা চেয়ে একটি অভিযোগ দেয়। 

এদিকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর নাইম ও পরিবারের লোকজন ওই তরুণীকে সুকৌশলে তার জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রাম্য শালীর দরবারের ব্যবস্থা করে। তার বিএনপি নেতাদের এব্যাপারে সহযোগিতা চায়। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা নিজেরা বসে আপোষ মিমাংসা করে দিবে বলে তরুণীর পরিবারকে জানায়। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিপক্ষে যাওয়া সম্ভব নয় এমনটা ভেবে তরুণীর পরিবার সালিশ দরবারে রাজি হয়। 

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক  আওলাদ হোসেন মোল্লা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল হক টিটু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খোকা, চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, ইউনিয়ন যুবদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ একাধিক নেতার উপস্থিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সেখানে এসআই মো. ইউনুস নামে একজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। সালিশ দরবারে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ  বিয়ের পরিবর্তে এক লাখ ২০ হাজার টাকায় রফাদফার প্রস্তাব দেয় । এ শালিস দরবারের রায়ের খবর জানতে পেরে তরুণী সেটা মেনে নিতে না পেরে দরবার চলাকালেই ঘরের দরজা আটকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহতার চেষ্টা করে । এসময় পরিবারের লোকজন ঘটনা বুঝতে পেরে ঘরের দরজা ভেঙ্গে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে অজ্ঞান অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন । সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরও তরুণীর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিও) নিয়ে চিকিৎসা দিতে থাকে।  বর্তমানে সেখানে সে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে বলে জানায় চিকিৎসকরা।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, নাইম  আমার মেয়ের সংসার ভেঙেছে। আমার মেয়েকে গত এক বছর ধরে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। আমার মেয়ে বিয়ের কথা বললে সে  তালবাহানা করতে থাকে। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।  মানুষ তাকে নিয়ে বাজে কথা বলায় সে বাহিরে যেতো পারতো না। আজকে দরবারে তারা বিয়ের কথা না বলে প্রথমে ২০ হাজার, ৩০ হাজার ও পরে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মিমাংসার কথা বলে। একথা শোনে মেয়ে ক্ষোভে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার  চেষ্টা করে।  এখন সে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।  আমি থানায় আগেই  লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম কিন্তু বিচার পাইনি। আমি এঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি। 

জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক  আওলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, আমি অল্প সময়ের জন্য  দরবারে গিয়েছিলাম,  ছেলে ও মেয়ের কথা শোনে জরুরি কাজ থাকায় চলে এসেছি।  
 

নরসিংদীর খবর বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ