• নরসিংদী
  • শুক্রবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৪ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

Advertise your products here

নরসিংদী  শুক্রবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ;   ১৪ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
website logo

তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় দুজন গ্রেফতার 


জাগো নরসিংদী 24 ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৩৭ এএম
তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় দুজন গ্রেফতার 

স্টাফ রিপোর্টার: নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাসের এক নবজাতকের পা ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় চাচি লতা বেগমকে (৩২) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে| একইসঙ্গে এ ঘটনায় শিশুটির চাচা ও দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ|

এ ঘটনায় গতকাল রাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন| ভুক্তভোগী শিশুটির নাম রিজিক| সে সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামের মোঃ জহির ও সাইফা আক্তারের সন্তান|

মামলার আসামিরা হলেন- শিশুটির আপন চাচি লতা বেগম, চাচা কাউছার আহম্মেদ ও চাচার শ^শুর আলমাছ মিয়া| তারা সবাই মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার বাসিন্দা| ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর থেকে চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছে|

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাইকারদী এলাকার মোঃ জহির ও সাইফা আক্তার দম্পত্তির তিন মাসের শিশু রিজিক| জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন মেয়াদে অসুস্থ থাকায় শিশু রিজিক প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল| শিশু রিজিকের বাবা মোঃ জহির ও চাচা কাউছার আহম্মেদ একসঙ্গে থাকেন, তাদের যৌথ পরিবার|

শিশু রিজিক প্রায়ই অসুস্থ এবং হাসপাতালে থাকায় তার মা সাইফা আক্তার পারিবারিক কোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারায় চাচি লতা বেগম নানা কটুক্তি করায় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য চলে আসছিল| 

গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে শিশু রিজিককে নিয়ে মা সাইফা আক্তার নিজ রুমে শুয়ে ছিলেন| তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ওয়াশরুমে গেল চাচি লতা রুমে ঢুকে শিশুর পা মুচড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন|  শিশুর মা সন্দেহবশত ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে কৌশলে মোবাইলের ভিডিও ধারন চালু করে যান| বিষয়টি নিজের মধ্যে হওয়ায় শিশু রিজিকের চাচা কাউছার আহম্মেদ এবং অভিযুক্ত লতার বাবা আলমাছ মিয়া ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে চেয়ে ছিলেন|

পাশাপাশি চাচি লতা বেগমকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন| তারা রিজিকের মা সাইফা আক্তারের মোবাইলে ধারন করা ভিডিওটি ডিলিট করে দেন| এর আগেই সাইফা আক্তার ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে পাঠিয়ে দেন| এ ঘটনায় পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও গত মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়|

এর আগে, শিশুটির বাবা জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে| শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি| পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি| তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই| এ ঘটনায় অভিযুক্তকে তারা মাফ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন|

মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে| অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন| শিশুটির বাবা-মা অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকেন, এক সঙ্গে কাজ করেন| তারা কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছেন না| তবে এমন নিষ্ঠুর আচরণে বিচারের দায়িত্ব তো রাষ্ট্র নেবেই| সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেছেন| এ ঘটনায় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে| 

ওসি আরো বলেন, শিশুটিকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে| তবে পা ভাঙেনি এটা পরিবারের দাবি| অভিযুক্ত লতা বেগম যে কাজটা করেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে|

প্রসঙ্গত, প্রায় ৫ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত ১৪ জুলাই দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।
 

নরসিংদীর খবর বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ