শূন্যতার মলাটে মোড়ানো এক দীর্ঘ প্রহর, জানালার কাঁচে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো যেন অশ্রুর অণুলিপি।
আমি তো চেয়েছিলাম সবটুকু আকাশ সাজাতে,অথচ আজ এক ফালি চাঁদও বড় বেশি নিঃসঙ্গ।
তুমি নেই—এই কথাটি যখন বাতাসের কানে যায়, বৃক্ষরা সব নত হয়, যেন কোনো বিষাদগ্রস্ত শ্লোক।
বুকের বাঁ-পাশে যে শব্দটা আজও টিকে আছে, সেটা কি হৃদপিণ্ড? নাকি তোমার রেখে যাওয়া কোনো নামহীন ক্ষত?
দূরত্বের যে নদী তুমি তৈরি করেছ নিপুণ হাতে, তার কোনো সেতু নেই, কোনো নৌকার সারি নেই।
আমি শুধু তীরের বাসিন্দা হয়ে চেয়ে দেখি, গোধূলির রঙে তুমি মিশে যাচ্ছ দিগন্তের ওপারে।
মানুষ বলে সময় সব ক্ষত মুছে দেয়,
অথচ আমার ক্যালেন্ডারে আজও সেই চৈত্র মাস—
যেদিন তুমি বলেছিলে, "ফিরে আসব"—সেই থেকে এক যুগ পার, অথচ আমি আজও সেই চৌকাঠে
অপেক্ষা করছি এক মিথ্যে মিথের।
হয়তো তুমি অন্য কোনো আকাশের নক্ষত্র হয়েছ, অথবা সময়ের স্রোতে ভেসে গেছ বহুদূরে।
তবু, এই নিঃশব্দ হাহাকারে আমি আজও শুনি—তোমার পায়ের শব্দ, যা কেবল আমারই মরীচিকা।