স্টাফ রিপোর্ট :জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান কাউসার। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি তাকে মোবাইল ফোনে কল করে নতুন বিরোধীদলীয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন। ফোনে আলাপকালে মাওলানা কাউসার সাফ জানিয়ে দেন, "এখন এসব করার সময় নেই আমার, আমার মন ভালো না।" তার এমন সোজাসাপ্টা ও আবেগপ্রবণ মন্তব্য এখন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান কাউসারের এই 'মন খারাপ' ও রাজনৈতিক উদাসীনতার পেছনে রয়েছে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার গভীর ক্ষোভ। তিনি নরসিংদী-৩ শিবপুর আসন থেকে নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর শক্ত সংসদ সদস্য (এমপি) পদপ্রার্থী ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দলীয় হাই কমান্ড তাকে মনোনয়ন না দিয়ে ১১ দলীয় জোটের শরিক অন্য এক প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করে। নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তিনি চরম ক্ষুব্ধ হন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা ধারণা করছেন।
মাওলানা কাউসারের এই মন্তব্য এবং জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদের প্রতি এমন অনাগ্রহ নিয়ে শিবপুরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি নীরব প্রতিবাদ বা ব্যক্তিগত অভিমানে তিনি হয়তো এমন আচরণ করেছেন। তবে একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার মতো সাংবিধানিক পদের প্রতি এমন অবজ্ঞা প্রকাশ করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে চায়ের কাপে আলোচনা চলছে। সব মিলিয়ে, জামায়াত নেতার "মন ভালো নেই" বলে এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন শিবপুরের রাজনীতির অন্যতম প্রধান খোরাকে পরিণত হয়েছে।
এদিকে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের পরামর্শ ছাড়াই শিবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা করেন। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোচ প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান কাউসার কোন মন্তব্য করেননি।