স্টাফ রিপোর্ট : নরসিংদীর শিবপুরে দীর্ঘদিনের পুরোনো সরকারি পাবলিক লাইব্রেরিকে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয় বইপ্রেমী শিক্ষার্থী, পাঠক, সাহিত্যিক, লেখক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাবলিক লাইব্রেরির স্বকীয়তা নষ্ট না করে এটিকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ পাঠাগার হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, শিবপুর পাবলিক লাইব্রেরির ভবনটি ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নরসিংদী জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে একই বছর ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। নির্মাণের পর প্রায় ১৯ ধরে পাবলিক লাইব্রেরিটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। বছরের পর বছর অযত্ন-অবহেলায় ভবনটির ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়। ফলে যে উদ্দেশ্যে পাবলিক লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তা অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ অবস্থায় পাবলিক লাইব্রেরিটিকে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের প্রস্তাব সামনে আসায় শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিস রিকাবদার বলেন, “পাবলিক লাইব্রেরি জনগণের জ্ঞানচর্চার স্থান। এটিকে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তর না করে বরং আধুনিক ও সমৃদ্ধ পাবলিক লাইব্রেরি হিসেবে উন্নত করতে হবে।”
কবি, সাহিত্যিক ও প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল ইসলাম নুরচান বলেন, “পাবলিক লাইব্রেরি সমাজের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মননশীলতার প্রতীক। শিবপুর পাবলিক লাইব্রেরি দীর্ঘদিন অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকায় এর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে,এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কিন্তু সমাধান হিসেবে এর পরিচয় পরিবর্তন করে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তর করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বরং যে উদ্দেশ্যে লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্যেই এটিকে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে নতুন প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। পাবলিক লাইব্রেরি রূপান্তর নয়, বরং পুনরুজ্জীবিত ও সমৃদ্ধ করাই আমাদের দাবি।”
এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার জানান, "পাবলিক লাইব্রেরিটিকে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। প্রকল্পটি জেলা পরিষদ বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের ভিতরে নতুন একটি পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণ করা হবে।"
নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী বলেন, “শিবপুর পাবলিক লাইব্রেরিকে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তর করা হবে না। এটি পাবলিক লাইব্রেরি হিসেবেই থাকবে এবং আধুনিকায়ন করা হবে। এ জন্য বরাদ্দের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আধুনিক পাবলিক লাইব্রেরি হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।"