শিবপুর প্রতিনিধি : নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সেবা গ্রহীতা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে তোলা কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মো. আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও প্রচারণা দেখা যায়। এসব প্রচারণায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কয়েকটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেবা নেওয়া একাধিক ব্যক্তি তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানান।
সেবা গ্রহীতারা বলেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তির সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগাযোগ রাখা এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলা অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। সে সময় দাপ্তরিক ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে অনেকের সঙ্গেই ছবি তোলার ঘটনা ঘটেছে। শুধু ছবি দেখিয়ে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা কর্মকাণ্ড নির্ধারণ করা উচিত নয়।
তারা আরও বলেন, পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে গিয়ে মো. আলতাফ হোসেনের কাছ থেকে তারা আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছেন। তার আচরণ, দায়িত্বশীলতা ও দ্রুততার সঙ্গে সেবা দেওয়ার মানসিকতায় তারা সন্তুষ্ট। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলেও দাবি করেন তারা।
সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ, যারা অতীতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে অনিয়ম করে সুবিধা নিতে পারেননি, তারাই ব্যক্তিগত স্বার্থে আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে থাকতে পারেন। তবে এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত বলে মনে করেন তারা।
সেবা গ্রহীতারা আরও জানান, মো. আলতাফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি নরসিংদী জেলা সচিব অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তারা জানান।
তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর। তাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এদিকে, মো. আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সেবা গ্রহীতারা বলেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করা উচিত। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই সঠিক পদ্ধতি।