শিবপুর প্রতিনিধি: নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দত্তেরগাঁও গ্রামে দুই সন্তান প্রবাসে থাকার সুযোগে এক অসহায় পরিবারের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকি ও নির্যাতনের মুখে বর্তমানে নিজের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই প্রবাসীর বৃদ্ধা মা ও বাবা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন—কোথাও কোনো স্থায়ী সমাধান না মেলায় আসামিদের দাপট ও সাহস আরও চরম আকার ধারণ করেছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের দত্তেরগাঁও মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনার হোসেনের দুই সন্তান জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। বাড়িতে তাদের বৃদ্ধ বাবা-মা বসবাস করেন। সন্তানরা প্রবাসে থাকার সুবাদে একা পেয়ে একই গ্রামের মৃত আঃ আওয়ালের ছেলে এবাদুল (৪৫), এবাদুলের ছেলে তানজিদ (২৩) এবং ইব্রাহিমের ছেলে শাহাদাত দীর্ঘদিন ধরে এই অসহায় পরিবারটিকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। তারা প্রায়ই বিভিন্ন তুচ্ছ অজুহাতে প্রবাসীর বাড়িতে এসে ঝগড়াঝাটি বাধাতো এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৩ জুলাই শুক্রবার সকাল ১১টায় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ও অভিন্ন উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদী জাহানারা বেগমের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে তারা প্রবাসীর অবর্তমানে পরিবারের কাছে জোরপূর্বক নগদ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বৃদ্ধা জাহানারা বেগম ও তার স্বামীর ওপর চড়াও হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
২৪ জুলাই শুক্রবার সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, "আমার ছেলেরা বিদেশে থাকার সুযোগে তারা আমাদের ওপর জুলুম করছে। আমরা এই গ্রামে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি না। এই ঘটনার পর আমরা প্রতিবেশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এমনকি পুলিশের কাছেও গিয়েছি। কিন্তু উচ্ছৃঙ্খল মাদকাসক্ত এই চক্রের কারণে কোনো সমাধান হয়নি। বিচার না পেয়ে উল্টো আসামিদের সাহস আরও বেড়ে গেছে। এখন তারা আমাদের দেখলেই মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমরা এখন নিজেদের বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।"এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিচার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আসামিরা স্থানীয় আইন-কানুন বা সমাজ প্রধানদের কোনো তোয়াক্কা করছে না। ফলে পুরো পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের চাকা সচল রাখলেও দেশে তাদের মা-বাবার এই দুর্দশা ও বাড়িছাড়া হওয়ার ঘটনা স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এই বিষয়ে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কোহিনূর মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রবাসীর প্রবীণ বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিযুক্ত তানজিদ, এবাদুল ও শাহাদাতকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।