স্টাফ রিপোর্টার : নরসিংদীর পলাশে রাইসা নামে আড়াই বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুল কাদির (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে পলাশ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ধর্ষণের শিকার হন শিশুটি। এব্যাপারে স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না পেয়ে শিশুটির পরিবার শুক্রবার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পেয়ে শনিবার আব্দুল কাদিরকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করায় ধর্ষকের পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার সকালে কাদিরের বড় ভাই আব্দুল আজিজ ও তার ছেলে সাকিবের নেতৃত্বে বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাদীনির বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং বাদীনি ও তার মাকে মারধর করে।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল কাদির উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার কুমারটেক গ্রামের মৃত আব্দুল আওয়ালের ছেলে। অপরদিকে ধর্ষণের শিকার শিশুটি পার্শ্ববর্তী বাড়ীর এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীর মেয়ে। বাদীনি বাবার বাড়ীতে দুই সন্তানকে নিয়ে কোন রকম দিন কাটাচ্ছে।
বাদীনি জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে তার আড়াই বছর বয়সি শিশুটি বাড়ির সামনে খেলাধুলা করতে থাকে এসময় তিনি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় মেয়ের কথা ভূলে যান। কিছুক্ষণ পর শিশু কন্যাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এদিক সেদিক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির আব্দুল কাদিরকে তার শিশু কন্যাকে সাথে নিয়ে আসতে দেখেন। শিশু মেয়েকে মজা কিনে দিতে নিয়ে গেছে বলে আব্দুল কাদির জানায।
এ সময় শিশুর হাতে একটি কেক দেখতে পান তিনি । মেয়েকে কোলে নিয়ে চলে আসতে চাইলে তার মেয়ে কিছুতেই কোলে উঠতে চাচ্ছিল না।
এ অবস্থায় কি হয়েছে বলে মেয়ের কাছে জানতে চাইলে সে তার বিশেষ অঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করে তাকপ 'মারছে'বলে কান্না করতে থাকে।পরে গোপনাঙ্গ দেখে বাদীনির বুঝতে বাকী রইল না যে তার শিশুকন্যা ধর্ষনের শিকার হয়েছে।
এসময় শিশুর অবস্থা বেগতিক দেখে মেয়েকে নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে শিশুটি ধর্ষনের শিকার হয়েছে বলে চিকিৎসক জানায়।
পরে এলাকায় এসে পড়শীদেরকে বিষয়টি অবগত করলে তারা সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেয় এবং শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বিষয়টির মীমাংসা করা হবে বলে জানায় তাদের। কিন্তু শুক্রবার নামাজের পর নজরুল ও সোহেল নামে দুই ব্যক্তি এসে তাদেরকে জানায় ধর্ষক কাদির এবং তার পরিবারের লোকজন সামাজিক এই বিচার মানে না। পরবর্তীতে শুক্রবার রাতে তারা থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিশু মেয়েকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
এদিকে থানায় অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে ধর্ষক আব্দুল কাদিরের পরিবারের লোকজন তার বড় ভাই আব্দুল আজিজ (৫০) ও ভাতিজা সাকিব (২০) আরেক ভাতিজা আলিফ (১৫) কাদিরের স্ত্রীসহ অন্যান্যরা বাদীনির বাড়ীঘরে হামলা চালায। এসময় তারা লাথি মেরে ঘরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে লুটপাট চালা এবং বাদীনি ও তার মা'কে বেধরক মারধর করে।
স্থানীয়রা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এব্যাপারে পলাশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কুতুবুল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,অভিযোগের পর এ ঘটনার বিষয়টি গুরুত্ব দিযে পলাশ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনা সত্যতার প্রমান পাওয়ায় অভিযুক্ত আব্দুল কাদিরকে গ্রেফতার করা হয়। শিশু মেয়েটিকে ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহনে আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল-মামুন বলেন, ইতোমধ্যেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে। তাছাড়া উক্ত মামলার প্রধান আসামি আব্দুল কাদিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আগামীকাল তাকে আদালতের মাধ্যমে কোর্টে চালান করা হবে বলেও জানান তিনি।