স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ২২তম জাতীয় সিনিয়র ও জুনিয়র তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা ২০২৫–২০২৬ অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতার সিনিয়র গ্রুপে বাংলাদেশ আনসার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে এবং জুনিয়র গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয় বিকেএসপি। নরসিংদীসহ দেশের ৩০টি জেলার বিভিন্ন ক্লাব ও সংস্থা থেকে মোট ৫৫০ জন সিনিয়র ও জুনিয়র তায়কোয়ানডো ক্রীড়াবিদ এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। ক্রীড়াবিদদের নৈপুণ্য, শৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব দর্শক ও অতিথিদের মুগ্ধ করে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সভাপতি এসজিপি, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া–১ অনুবিভাগ) এনডিসি মো. সেলিম ফকির এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) এনডিসি মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহাবুব-উল-আলম। এ সময় তিনি বিজয়ী খেলোয়াড়দের হাতে পদক ও সনদপত্র তুলে দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “তায়কোয়ানডোর মতো মার্শাল আর্ট শুধু শারীরিক সক্ষমতাই নয়, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তায়কোয়ানডো ক্রীড়াবিদরা আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে আমি আশাবাদী।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও সব্যসাচী জাতীয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মেজর ইমরোজ আহমেদ, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের জি+ পিএসসি, এনডিসি, পিবিজিএম, বিজিবিএম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালক (ক্রীড়া ও সংস্কৃতি) মির্জা সিফাত-ই-খোদা।
নরসিংদী জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে ২২তম জাতীয় সিনিয়র ও জুনিয়র তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করে নরসিংদী জেলা তায়কোয়ানডো অ্যাসোসিয়েশনের ৬ জন ক্রীড়াবিদ। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও ছয়টি ব্রোঞ্জসহ মোট আটটি পদক অর্জন করে জেলার গৌরব অক্ষুণ্ন রাখেন তারা।
৪৯ কেজি ওজন শ্রেণিতে অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন মো. হিজবুল্লাহ। এছাড়া তিনি পোমসে ইভেন্টে অংশ নিয়ে একটি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। ৩৮ কেজি ওজন শ্রেণিতে সাবেরা জাহান রৌপ্য পদক অর্জন করেন। নাজহা জামান ৪৭ কেজি ওজন শ্রেণি ও পোমসে—উভয় ইভেন্টে অংশ নিয়ে দুটি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। সিনহা জামান ৫২ কেজি ওজন শ্রেণি ও পোমসে ইভেন্টে দুটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন এবং ৫৮ কেজি ওজন শ্রেণিতে ইয়াকুব হুসাইন একটি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন।
এই সাফল্যের পেছনে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থা প্রদত্ত প্রধান প্রশিক্ষক শাহজাহান সম্রাট। দলের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গোলাম মোস্তফা মিয়া।