মনোহরদী প্রতিনিধি : নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) সংসদীয় আসনে প্রস্তাবকারীর স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির মনোনীত প্রার্থী কাজী শরিফুল ইসলাম নামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বেলা বারোটায় নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
এই দিন নরসিংদী-২ পলাশ ও নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) এই দুটি যদি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হয়। মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ে দুইটি আসনে মোট চারজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়। এর মধ্যে নরসিংদী-২ (পলাশ) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মুহসীন আহমেদ. জাতীয় পার্টির এ.এন.এম রফিকুল আলম সেলিম, ইনসানিয়াত বিপ্লব থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের শফিকুল ইসলাম।
জানা যায়, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টি মনোনীত প্রার্থী কাজী শরিফুল ইসলামে মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী হিসেবে এসএম তানজির আহমেদ তুষারের নাম লিখেন এবং স্বাক্ষর প্রদান করেন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের আগে তানজির তুষার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁর স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ওই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে কাজী শরিফুল ইসলাম মোট ৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
এদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ ছাইফুল্লাহ প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জনতার দলের আবু দার্দা মোঃ মাজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী সাজ্জাদ জহির, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মুহাম্মদ মিলন মিয়া, জাতীয় পার্টির মোঃ কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী শফিকুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত দিনে নরসিংদী-৪ আসনে প্রার্থীদের দাখিরকৃত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কাজী শরিফুল ইসলাম ছাড়া বাকি ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জানান, 'যাচাই-বাছাইয়ের সময় একজন প্রার্থীর প্রস্তাবকারী স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে তাঁর স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে তিনি নির্বাচন আইন অনুযায়ী আপিল করার সুযোগ পাবেন।'