স্টাফ রিপোর্টার : বন্দিদের সংশোধন, মানসিক বিকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে নরসিংদী জেলা কারাগারে বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এসময় বন্দিদের বিনোদনের জন্য টেলিভিশন ও বাদ্যযন্ত্র এবং নারী বন্দিদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি কারাগারে থাকা শিশুদের জন্য দেওয়া হয় বিভিন্ন খেলার সামগ্রী।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নরসিংদী জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে এ সকল সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম. সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া বন্দিদের মাঝে এসব উপকরণ তুলে দেন।
বন্দিদের জন্য চারটি টেলিভিশন, হারমোনিয়াম ও তবলা এবং নারী বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও আয়মুখী কাজে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এছাড়া কারাগারে অবস্থানরত শিশুদের মানসিক বিকাশ ও বিনোদনের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন ধরনের খেলনা সামগ্রী প্রদান করা হয়।
এসময় এই ধরনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে বন্দিদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিনোদন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় বন্দিরা সন্তোষ ও আনন্দ প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ সময় কারাগার প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. তারেক কামাল, জেলার হুমায়ুন কবির, নরসিংদী সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, কারাগারের প্রফেশন অফিসার, সহকারী সার্জন, ডেপুটি জেলারসহ কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য শুধু বন্দিদের শাস্তি দেওয়া নয় বরং তাদের সংশোধন, মানসিক বিকাশ, দক্ষতা অর্জন এবং সমাজে পুনর্বাসনের উপযোগী করে গড়ে তোলা। কারাগারে অবস্থানকালীন ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ পেলে বন্দিদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতিও সহজ হয়।
তারা আরও বলেন, নারী বন্দিদের দক্ষতা উন্নয়নে সেলাই মেশিনের মতো উপকরণ বিতরণ তাদের ভবিষ্যতে আয়মুখী কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একইভাবে বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চার উপকরণ বন্দিদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এসব উদ্যোগ সংশোধনমূলক কারা ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন এবং বন্দিদের সমাজের মূলধারায় পুনঃএকীভূত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।