স্টাফ রিপোর্ট : আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রত্যাশায় মানুষ আদালতের আশ্রয় নেয়, কিন্তু মাঝে মাঝে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসে গভীর অনিশ্চয়তা, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার আলী নগর গ্রামের বাসিন্দা লিপি বেগম। স্বামী সাফাজ উদ্দিনের সঙ্গে বসবাসরত লিপি বেগম ২০১০ সালে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন (নং ৭৪৫, ২০১০) দায়ের করেছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের কিছু সিদ্ধান্তের বিপরীতে তাঁর কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।
অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ্য যে, দেশের বিচার ব্যবস্থা সর্বদা ন্যায়বিচারের আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে আসছে, তবে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার গোলকধাঁধা এবং শুনানির অপেক্ষায় লিপি বেগমের এই রিট পিটিশনটি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিচারাধীন থাকায় তিনি বর্তমানে এক অসহনীয় ও মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছেন। একটি রিট পিটিশনের চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় দেড় যুগ পেরিয়ে যাওয়া একজন নাগরিকের জন্য যে মানসিক ও আর্থিক বিপর্যয় বয়ে আনে, লিপি বেগমের বর্তমান অবস্থা তারই করুণ সাক্ষী।
দীর্ঘ এই সময়ে তিনি কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত থাকায় পরিবার ও সমাজজীবনে এক প্রকার অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন, যেখানে প্রতিটি দিন কাটে নতুন কোনো শুনানির তারিখ পাওয়ার প্রতিক্ষায়।
আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে লিপি বেগম দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সাথে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, যা তাঁর অদম্য সাহসের পরিচয় দেয়। তবে একজন প্রান্তিক ভুক্তভোগীর পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে মামলা পরিচালনা করা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি মানসিকভাবেও অত্যন্ত ক্লান্তিকর।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে যোগাযোগ এবং আইনি পরামর্শের পরেও দ্রুত শুনানির একটি তারিখ নির্ধারণের অভাবে মামলাটি এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে বিচারপ্রার্থীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত থমকে গেছে।
দেশের আইন ব্যবস্থা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে বলা যায় যে, লিপি বেগমের মতো অসহায় বিচারপ্রার্থীর কথা বিবেচনা করে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলে তিনি হয়তো আবারও একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
লিপি বেগমের এখন একটাই প্রার্থনা, বিচার ব্যবস্থার প্রতি গভীর আস্থা নিয়ে তিনি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিজ্ঞ আদালতের মানবিক দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন, যাতে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা এই রিট পিটিশনটির একটি চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন হয় এবং তিনি তাঁর হারানো কর্মসংস্থান ফিরে পান।
ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে তা সাধারণ মানুষের জীবনে যে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে, লিপি বেগমের এই দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষা তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।
সমাজের সচেতন নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় এবং আইনের বিধান মেনে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে লিপি বেগমের মতো একজন ভুক্তভোগী নারী নতুন করে বাঁচার প্রেরণা পাবেন এবং রাষ্ট্রের বিচারিক কাঠামোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।