• নরসিংদী
  • মঙ্গলবার, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

Advertise your products here

নরসিংদী  মঙ্গলবার, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ;   ২১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
website logo

মাধবদীতে রাতের আঁধারে মসজিদের জমি দখলের অভিযোগ


জাগো নরসিংদী 24 ; প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৫৯ পিএম
মাধবদীতে রাতের আঁধারে মসজিদের জমি দখলের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার টাটাপাড়া এলাকায় রাতের আঁধারে একটি জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত জমি জোরপূর্বক জবরদখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ জানুয়ারি (সোমবার) রাত আনুমানিক ৯টার সময় টাটাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও মাধবদী পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মৃত মাতবর আলী প্রধানের ছেলে মাসুম প্রধান ২০–২৫ জন লোক নিয়ে মসজিদের এই জমিটি জবরদখল করে বলে স্থানীয়রা জানান। মসজিদের জমি হারিয়ে মুসল্লিরা এখন চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯১ সালে টাটাপাড়া গ্রামের জনাবা ফাতেমা হোসেন খান নিজ গ্রামে একটি মসজিদ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সেই উদ্দেশ্যে তিনি পাশের বাড়ির মাতবর আলী, রাজা মিয়া, আসগর আলী ও আয়েব আলীর কাছ থেকে আর.এস. ৮৯ নং দাগের ৮ শতাংশ জমি তার বড় ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম খানের নামে ক্রয় করেন (দলিল নং- ১৪০৯, তারিখ: ১০/০২/১৯৯১ ইং)।

পরবর্তীতে আনোয়ারুল ইসলাম খান জমির খারিজ সম্পন্ন করে নিয়মিত খাজনা প্রদানপূর্বক উক্ত জমির উত্তর পাশ থেকে অর্ধেক অর্থাৎ ৪ শতাংশ জমি ‘টাটাপাড়া জামে মসজিদ’-এর অনুকূলে ওয়াকফ করে দেন (দলিল নং- ২৬১৮, তারিখ: ১৭/০৩/১৯৯২ ইং)। উক্ত জমিতেই বর্তমানে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং অবশিষ্ট ৪ শতাংশ জমি মসজিদের সম্প্রসারণের জন্য রাখা হয়েছিল। আনোয়ারুল ইসলাম খানের ইন্তেকালের পর, তার উত্তরাধিকারী মোঃ রুবেল খানসহ অন্যান্য ওয়ারিশগণ গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে ১৯৯ নং দলিলের মাধ্যমে বাকি ৪ শতাংশ জমিও মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। এর ফলে নতুন খতিয়ান (নং২০২৬-৩০০০০২) সৃষ্টির মাধ্যমে সম্পূর্ণ ৮ শতাংশ জমিই আইনগতভাবে মসজিদের মালিকানাধীন হয়। সম্পূর্ণ জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ হওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায়, গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ রাত ৯টার দিকে মাসুম প্রধান কিছু অসাধু লোকের প্ররোচনায় পড়ে মসজিদের মধ্যভাগ থেকে আনুমানিক ২ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়ে সেখানে রাতারাতি টিনের ঘর নির্মাণ করে মুদি দোকান বসিয়ে দেয়।

স্থানীয়দের দাবি, ৩৫ বছর আগে  মাতবর আলী নিজে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য যে  জমি বিক্রি করেছিলেন, আজ তার ছেলে মাসুম প্রধান গায়ের জোরে সেই জমি দখল করেছেন। বর্তমানে মাসুম প্রধান নিজেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মসজিদের জমি উদ্ধারের চেষ্টা করলে মুসল্লিদের ক্রমাগত হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। ফলে সাধারণ মুসল্লিরা ভয়ে ও আতঙ্কে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।
এই বিষয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী সিরাজ উকিল, আমজাদ হোসেন এবং কামরুল হাসান লিখিত আইনি পরামর্শে জানিয়েছেন, টাটাপাড়া জামে মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত ৮ শতাংশ জমির কাগজপত্র সম্পূর্ণ বৈধ, নির্ভুল ও নিষ্কণ্টক। 
তৃতীয় পক্ষ হিসেবে মাসুম প্রধান বা তার মাতা জাহান আরা বেগমের (৩৩১০ নং দলিলের ভিত্তিতে) এই জমির সীমানার ভেতর কোনো অংশ দাবি করার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই ফলে এই দখল সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি বলে মতামত দিয়েছেন তারা।

এদিকে জমি দখলের পরপরই মসজিদের মোতোয়াল্লি ড. রফিকুল ইসলাম খান বিষয়টি নরসিংদী সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য খাইরুল কবির খোকনকে অবহিত করেন। নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন তাৎক্ষণিকভাবে নরসিংদী জেলা ছাত্রদল নেতা নাহিদকে বিষয়টি মীমাংসা করার দায়িত্ব দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ছাত্রদল নেতা নাহিদ এই ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারায় নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের বহু প্রতীক্ষিত কাজটি সম্পূর্ণ থমকে গেছে।
তবে এব্যাপারে অভিযুক্ত মাসুমের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার উপর আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি একজন মুসলিম হয়ে মসজিদের জমি দখল করব এটা আপনারা কিভাবে ভাবলেন! আমি আমার মায়ের নামে দলিলকৃত জমি দখল করেছি আর তার মায়ের নামে দলিলকৃত জমি কি অন্য কেউ বিক্রি বা মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দিতে পারে কিনা তা জানতে চান তিনি । তবে মসজিদের মোতাওয়াল্লির মাধ্যমে নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের নিকট বিচার দিলে তিনি নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদকে বিষয়টি সমাধানের জন্য নির্দেশ দেন বলে ও জানান তিনি।

এদিকে নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদের কাছে জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তাই বিষয়টির দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে বিজ্ঞ আইনজীবী, বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করার পাশাপাশি মসজিদের জমি থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন মসজিদের মুসল্লী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ