স্টাফ রিপোর্ট : বাঙলাদেশ লেখক শিবির, নরসিংদীর আয়োজনে ‘সবুজ পল্লী’ পত্রিকা প্রকাশের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার নরসিংদী সার্কিট হাউজ সংলগ্ন পিনাকল চার্টার্ড স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে সভাটি বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে শুরু হয়। নরসিংদীর বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক-লেখক-কবি-সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন বাঙলাদেশ লেখক শিবির, কেন্দ্রীয় কমিটি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘বাঙলাদেশ লেখক শিবির, নরসিংদী’র সভাপতি নাজমুল আলম সোহাগ।
শুরুতেই ১৯২৬ সালে প্রকাশিত ‘সবুজ পল্লী’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয় পাঠ করে শোনান ‘বাঙলাদেশ লেখক শিবির, নরসিংদী’র সদস্য রফিকুল ইসলাম রফিক। তারপর শুরু হয় মূল আলোচনা অনুষ্ঠান। দর্শক-শ্রোতারা আগ্রহভরে আলোচকদের বক্তব্য শোনেন। আলোচনায় ‘সবুজ পল্লী’ পত্রিকা প্রকাশের ইতিহাসসহ তৎসময়ের পারিপার্শ্বিক অবস্থা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গোলাম মোস্তফা মিয়া, সাবেক অধ্যক্ষ, নরসিংদী সরকারি কলেজ,জহির মৃধা সভাপতি, মুক্তধারা নাট্য
সম্প্রদায়,মইনুল ইসলাম মিরু সভাপতি, নরসিংদী পরিবেশ আন্দোলন, সুমন ইউসুফ সম্পাদক, গঙ্গাঋদ্ধি, কিবিরিয়া লিপন সম্পাদক, পইঠা, আমজাদ হোসেন নরসিংদী প্রতিনিধি, দৈনিক যায়যায়দিন ও সম্পাদক, সাপ্তাহিক মাটির পুতুল,দয়াল ফারুক সম্পাদক, সবুজ পল্লী, খলিলুল্লাহ পাঠান মোহাম্মদ হানীফ পাঠানের ছেলে।
গোলাম মোস্তফা মিয়া বলেন, “সবুজ পল্লী প্রকাশ হওয়ায় লাভ হয়েছে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের, তা না হলে বাংলা সাহিত্যের ক্ষতি হতো। ভবিষ্যতে সমৃদ্ধ হতে হলে আমাদের অতীতের দিকে যেতে হবে। বর্তমান সমাজ নানাভাবে পশ্চাদপদ। বর্তমানে সৃজনশীল পাঠকের খুব অভাব।” তাছাড়া ভবিষ্যত প্রজন্মের সৃজনশীলতা নিয়ে আশঙ্কা তুলে ধরেন তিনি। তিনি আরো বলেন, “এটি বাংলা সাহিত্যের অংশ, যা বের হতো নরসিংদীর পল্লী অঞ্চল থেকে। বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য বিষয় না জানলে আমরা সবুজ পল্লী পত্রিকার সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারবো না। এই পত্রিকা অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা তুলে ধরেছিলো। তাছাড়া এই পত্রিকার বৈচিত্র্যও ছিলো উল্লেখযোগ্য। বর্তমান সবুজ পল্লী যদি তার মান ধরে রাখতে না পারে, তাহলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”