মকবুল হোসেন : নরসিংদী জেলার মাধবদী থানা এলাকায় বৃদ্ধা মোছা. জাহানারা বেগম (৭৩) হত্যাকাণ্ডের ক্লুলেস রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। মূলত গলার সোনার চেইন চুরির লোভেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই, ২০২৩ তারিখ সন্ধ্যায় মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্পনিগৈড়স্হ গ্রামে নিজ বসতঘরের বারান্দায় নামাজ রত অবস্থায় বৃদ্ধা জাহানারা বেগমকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ০৮(৮)২০২৩, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:১. হৃদয় মিয়া (২৭) — প্রধান আসামি, পিতা: মৃত হারুন মিয়া, সাং- স্বর্পনিগৈড়, মাধবদী। (তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা রয়েছে)।২. কাদির মিয়া (২৭) — পিতা: ছাহেদ, সাং- স্বর্পনিগৈড়, মাধবদী। (তার বিরুদ্ধে মারামারি ও মারাত্মক অস্ত্র দ্বারা জখম করার মামলা রয়েছে)।৩. আবু মিয়া (২৯) — পিতা: আকমান মিয়া, সাং- স্বর্পনিগৈড়, মাধবদী। (আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন)।
যেভাবে ঘটানো হয় হত্যাকাণ্ড: আসামি আবু মিয়ার জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ৭-৮ মাস পূর্বে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে তারা ভিকটিমের গলার সোনার চেইন চুরির পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন তারা ‘ড্রিম হলিডে পার্ক’-এর পেছনে পুনরায় বৈঠক করে চূড়ান্ত পরিকল্পনা সাজায়।ঘটনার দিন এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে আসামিরা ভিকটিমের বসতঘরে প্রবেশ করে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে এলে ভিকটিম তাদের চিনে ফেলেন। এতে আসামিরা ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে বারান্দায় থাকা বঁটি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
এরপর তারা গলার সোনার চেইনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আশিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন ও ওসি মাধবদী মোঃ কামাল হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় মাধবদী থানার এসআই ইউসুফ আহম্মেদকে। ডিবি টিমের সহায়তায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ধারাবাহিক অভিযানে এই মূল রহস্য উদঘাটিত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত সোনার চেইনটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।