স্টাফ রিপোর্টার : নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে চার ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে। এ সময় ভয়ে এক শ্রমিক অভিযুক্তদের হাতে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত রবিবার (৩ আগস্ট) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হারেস মিয়া বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে থানা পুলিশ সোমবার (৪ আগস্ট) ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে করিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ তিন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে। পরে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. রাকিব (৩২), তিনি করিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি; এছাড়াও একই এলাকার মান্নান মিয়ার ছেলে মো. সুমন প্রধান (৩৬) এবং আফজু মিয়ার ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (২৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী সদর মডেল থানার করিমপুর এলাকায় কবরস্থান থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত প্রায় ৪২০ মিটার সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। আর.আর. এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অভিযোগকারী হারেস মিয়াসহ কয়েকজন ওই প্রতিষ্ঠানের অধীনে কর্মরত রয়েছেন।
হারেস মিয়ার অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ড্রেন নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে ড্রেন নির্মাণের কাজ করতে দেওয়া হবে না এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১ আগস্ট ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে করিমপুর বাজারে কামাল মোল্লার রড-সিমেন্টের দোকানের পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলাকালে অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তারা অভিযোগকারী ও তাঁর সহকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পুনরায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তদের ভয়ে তিনি ১ নম্বর অভিযুক্ত সুমন প্রধানের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। টাকা গ্রহণের পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
পরে বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর এ ঘটনায় নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজির বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নরসিংদী সদর মডেল থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের৷ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।