• নরসিংদী
  • শনিবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৮ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

Advertise your products here

নরসিংদী  শনিবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ;   ২৮ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
website logo

বরিশালকে হারিয়ে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা


জাগো নরসিংদী 24 ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১:০৯ পিএম
বরিশালকে হারিয়ে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
খেলোয়াড়বৃন্দ

ডেস্ক রিপোর্ট  :ফরচুন বরিশালকে ১ রানে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। 

এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত বিপিএলের শিরোপা জিতলো কুমিল্লা। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৯ সালে বিপিএল শিরোপা জিতেছিলো কুমিল্লা। 
ফাইনাল ম্যাচে  প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫১ রান করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। জবাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫০ রান করতে সক্ষম হয়  ফরচুন বরিশাল। 

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বরিশালের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্বান্ত নেন কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। 

লিটন দাসকে নিয়ে আজও কুমিল্লার ইনিংস শুরু করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন। দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ১৩ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করা  নাইন  আজ অর্ধশতক  করেছেন ১৬ বলে।  ২৬ বল মোকাবেলায়  আজ  পাঁচ  বাউন্ডারি ও সমান সংখ্যক ওভার বাউন্ডারিতে  ৫৭ রান  কওে আউট হন এ মেক শিফট ওপেনার। 
বরিশালের স্পিনার আফগানিস্তানের মুজিব উর রহমানের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ তিন বলে ২টি ছক্কা ও ১টি চার মারেন নারাইন। 

বাঁ-হাতি পেসার শফিকুল ইসলামের পরের ওভারে ২টি ছক্কা ও ১টি চার মারেন নারাইন। নারাইন ঝড়ে প্রথম দুই ওভারে ৩৬ রান পায় কুমিল্লা। তৃতীয় ওভারে বল হাতে আক্রমনে আসেন বরিশালের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রথম পাঁচ ডেলিভারিতে ৪ রান দেন সাকিব। তবে শেষ বলে লিটনকে বোল্ড করেন সাকিব। ৬ বলে ৪ রান করেন লিটন। 

লিটনকে হারিয়ে দমে যাননি নারাইন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভোর করা চতুর্থ ওভারে ১টি চার ও সাকিবের করা পঞ্চম ওভারে ২টি চারে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১১তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন নারাইন। 

ছক্কায় পঞ্চম ওভার শুরু করেছিলেন নারাইন। কিন্তু তৃতীয় বলে নারাইনকে থামান পেসার মেহেদি হাসান রানা। রানার স্লো ডেলিভারিতে ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারির সীমানায় শান্তকে ক্যাচ দেন নারাইন। 
ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ৬৯ রানে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে নারাইনকে বিদায় করে স্বস্তি পায় বরিশাল। নারাইনের বিদায়ে জ¦লে উঠে বরিশালের বোলাররা। ৯৫ রানের মধ্যে কুমিল্লার ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন বরিশালের দুই বিদেশী মুজিব ও ব্রাভো। 

৮ রান করে রান আউট হন মাহমুদুল হাসান জয়। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু-প্লেসিসকে ৪ রানে আউট করেন মুজিব। আর সাত নম্বরে নামা আরিফুল হককে রানের খাতা খোলার আগেই দারুন এক গুগলিতে বোল্ড করেন মুজিব। 

১১তম ওভারে ষষ্ঠ উইকেট পতনের ব্যাকফুটে চলে যায় কুমিল্লা। এমন  অবস্থায়  উইকেট বাঁচিয়ে খেলার দিকে মনোযোগি হন কুমিল্লার ইংলিশ ক্রিকেটার মঈন আলি ও পেসার আবু হায়দার। টেস্ট মেজাজেই ব্যাট করেছেন এ জুটি। আরিফুলের বিদায়ের পর, পরের ৩৯ বলে মাত্র ২টি চার মারেন মঈন-আবু হায়দার। রান উঠে ৩১। 

১৮তম ওভারে রানার প্রথম ও শেষ বলে ছক্কা মারেন মঈন ও আবু হায়দার। ঐ ওভার থেকে রান আসে ১৫। ব্রাভোর ১৯তম ওভার থেকে আসে ৭ রান। 
শেষ ওভারের প্রথম বলে সাকিবের দুর্দান্ত থ্রোতে রান আউট হন মঈন। ৩২ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায়  ৩৮ রান করেন তিনি। সপ্তম উইকেটে ৫১ বলে ৫৩ রান যোগ করেন মঈন-আবু হায়দার। 

ঐ ওভারের তৃতীয় বলে আবু হায়দারকে ও চতুর্থ বলে শহিদুল ইসলামকে থামিয়ে হ্যাট্টিকের সম্ভাবনা জাগান পেসার শফিকুল। কিন্তু হ্যাট্টিক পূর্ণ করতে পারেননি শফিকুল। পঞ্চম বলে রান না পেলেও, শেষ বলে বাই থেকে ১ রান পায় কুমিল্লা। শেষ ওভারে ৩ রান দেন শফিকুল। 

আবু হায়দার ১টি করে চার-ছক্কায় ২৭ বলে ১৯ রান করেন। বরিশালের মুজিব ২৭ রানে ও শফিকুল ৩১ রানে ২টি করে উইকেট নেন। 

জয়ের জন্য ১৫২ রানের টার্গেটে শুরুটা ভালো হয়নি বরিশালের। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার মুনিম শাহরিয়ারকে হারায় বরিশাল। পেসার শহিদুলের বলে মিড অনে ডু-প্লেসিসকে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়া  শাহরিয়ার রানের খাতাই খুলতে পারেননি । 
শাহরিয়ারের বিদায়ে উইকেটে আসেন সৈকত আলি। আসরের প্রথম দিকে ৩ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন পর একাদশে সুযোগ পেয়ে, ব্যাট হাতে জ¦লে উঠেন ডান-হাতি ব্যাটার সৈকত। 

দ্বিতীয় ওভারের শেষ তিন বলে তিনটি বাউন্ডারি মারেন সৈকত। মুস্তাফিজের করা চতুর্থ ওভারেও তৃতীয় চার মারেন তিনি। মঈনের করা পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ১টি করে চার-ছক্কা আসে সৈকতের ব্যাট থেকে। 

সৈকতের ২২ বলে ৪২ রানের সুবাদে পাওয়ার প্লেতে ৫১ রান পায় বরিশাল। অন্যপ্রান্তে নিষ্প্রভ ছিলেন টি-টোয়েন্টিতে ১৪ হাজারের বেশি রান করা ক্রিস গেইল। এ সময় ৭ বল খেলে তার রান ছিল ৪।
আবু হায়দারের করা সপ্তম ওভারের শেষ তিন বলে তিন বাউন্ডারি মেরে ২৬ বলে টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরিতে পৌঁছান সৈকত। 

হাফ-সেঞ্চুরির পর রান তোলার গতি কমে যায় সৈকতের। শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানে আউট হন তিনি। স্পিনার তানভীরের বলে ইমরুলকে ক্যাচ দেয়ার আগে ৩৪ বল খেলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন সৈকত। গেইলের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৭৪ রান যোগ করেন সৈকত। যেখানে গেইলের অবদান ছিলো ১৭ বলে ১২ রান। 

সৈকতের বিদায়ের পর হাত খুলেন গেইল। ১১তম ওভারে প্রথম বলকে সীমানা ছাড়া করেন তিনি। মঈনকে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাকান গেইল। পরের ওভারে তানভীরের বলে ১টি করে চার-ছক্কা মারেন ইউনিভার্স বস। 

তবে ১৩তম ওভারে নারাইনের বলে লেগ বিফোর হন গেইল। এডিআরএস নিয়েও নিজের উইকেট বাঁচাতে পারেননি তিনি। ৩১ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৩ রান। 

সূত্র : বাসস

খেলা বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ