• নরসিংদী
  • রবিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

Advertise your products here

নরসিংদী  রবিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ;   ২১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
website logo

কোটি টাকার সম্পদের মালিক অফিস সহায়ক!


জাগো নরসিংদী 24 ; প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৩৪ এএম
কোটি টাকার সম্পদের মালিক অফিস সহায়ক!

স্টাফ রিপোর্টার : নরসিংদীর রায়পুরা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহায়ক মো. লিটন মিয়া দেড় যুগের ব্যবধানে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিকানা গড়ে তুলেছেন।

জানা যায়, রায়পুরা পৌর এলাকার কান্দাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মো. লিটন মিয়া প্রায় দুই যুগ আগে রায়পুরা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে পিয়ন পদে চাকরিতে যোগদান করেন। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অফিসে তার প্রভাব বৃদ্ধি পায়। কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি অফিসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে তার একচ্ছত্র প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের কয়েকজন কর্মচারী জানান, অফিসের অনেক কার্যক্রমই লিটন মিয়ার নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। তাদের দাবি, অফিস সহায়কের পদে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করেন।
সূত্র জানায়, ২৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত রায়পুরা উপজেলা দেশের অন্যতম বৃহৎ উপজেলা। জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর দলিল নিবন্ধনের জন্য তা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী দলিলের জমির মূল্য, সরকারি ফি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাই করার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিবর্তে স্থানীয় এক্সট্রা মোহরার শৈলান বাবু ও অফিস সহায়ক লিটন মিয়া পালন করে থাকেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে রায়পুরা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখক সমিতির কিছু সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নানা উপায়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লিটন মিয়াও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ১১ জুন রায়পুরায় লিটন মিয়া সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি দাবি করেন, “লিটন এখন টাকার কুমির। তার কত সম্পদ রয়েছে, সে নিজেও হয়তো সঠিক হিসাব জানে না। রায়পুরা থানার সামনে থাকা কয়েকটি দোকানও তার মালিকানাধীন বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে এসব দোকান প্রায় দেড় কোটি টাকায় কেনা হয়েছে বলে শুনেছি। যদিও কাগজপত্রে অন্য ব্যক্তির নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে।” তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. লিটন মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর আয় ও সম্পদের প্রকৃত উৎস বেরিয়ে আসবে। তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
 

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ